বান্দরবানের লামা উপজেলা আজিজনগর গজালিয়া সড়কের বান্দরবান সীমানা এলাকার জেলা পরিষদের টোল পয়েন্ট নিয়ে ইজারাদারের টেম্পারিং প্রতারনার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে প্রতারনার মাশুল দিচ্ছে আজিজনগর গজালিয়া ও ফাইতং ইউনিয়নের জনগণ। কারন এই সড়ক দিয়ে তিন ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষি পণ্য নেওয়া হয় চট্টগ্রাম কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কিন্তু টোলপয়েন্টে পণ্যের চড়াদাম নেওয়ায় বিপাকে ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, বিগত ৭ জুলাই, ২০২৬ লামা উপজেলারর আজিজনগর গজালিয়া সড়কের টোল পয়েন্টটি বান্দরবান জেলা পরিষদ থেকে ১ লক্ষ ৭২ হাজার দুইশত টাকায় এক বছরের জন্য
জামাল উদ্দিন নামের এক ইজারাদারকে ইজারা প্রদান করা হয়। কিন্তু এই ইজারাদার মূল ইজারা বিজ্ঞপ্তিকে টেম্পারিং বা জালিয়াতি করে ১ লক্ষ ৭২ হাজার দুইশত টাকাকে করেছে ৩ লক্ষ ৪০ হাজার দুইশত টাকা। ভ্যাট ২৫ হাজার ৮ শত ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করেছে ৫১ হাজার ৩০ টাকা এবং আয়কর ১৭ হাজার ২ শত ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করেছে ৩৪ হাজার ২০ টাকা।
ইজারাদার জামাল উদ্দিনের জালিয়াতি শুধু এখানে থেমে নেই। এই জাল কাগজ দেখিয়ে আরেকজন উপ ইজারাদারকে টোল পয়েন্টটি বিক্রি করে দেন ৫ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকায় যেটা সম্পূর্ণ ইজারার নিয়মের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
এদিকে উপ ইজারাদার চড়া দামে টোলপয়েন্ট কিনে জেলা পরিষদের পণ্যে তালিকার নির্ধারিত হারের চেয়েও বেশি হারে টোল আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছে ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জাম্বুরা প্রতি ১শ পিচ ৮ টাকা হলেও নিচ্ছে ৪০ টাকা করে, লেবু প্রতি ১শ পিচ ৩ টাকা হলে নিচ্ছে ২৫ টাকা, পান খাঁছি প্রতি ১৫ টাকা হলেও নিচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা।
ব্যবসায়ী মো ফরিদ বলেন, আমার ২শ জাম্বুরা থেকে ৭৫ টাকা নেওয়া হয়েছে যেখানে ১৬ টাকা নেওয়ার কথা। এভাবে কী ব্যবসা করা যায়।
আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন মহরম বলেন, পণ্যের টোল বেশি নেওয়ার বিষয়ে আমাকেও অনেকে মৌখিক অভিযোগ করেছে। আশা করছি পরিষদ বিহীত ব্যবস্থা নিবেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইজারাদার জামাল উদ্দিন বলেন, আমি টেম্পারিং করিনি। যদি করে থাকি জেলক পরিষদ আমার ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবে। তাতে আপনাদের কি সমস্যা?
এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, অফিশিয়ালি সাব কন্ট্রাক্ট দেয়ার সুযোগ নেই। পণ্যের দাম বেশি নিলেও ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে একটি লিখিত অভিযোগ থাকলে সুবিধা হয়।